জালালাবাদ থানা পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ চেয়ারম্যান মনফর আলী গ্রেফতার

357


১১/১০/২০১৯ খ্রি: তারিখ ১৮.৩০ ঘটিকার সময় এসএমপি’র জালালাবাদ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জনাব শাহ আলমের নেতৃত্বে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে থেকে সিলেট সদর উপজেলার ১ নং জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মনফর আলীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগজিন ভর্তি ০৭ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র-সন্ত্রাস, রাহাজানি চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, নারী অপহরণ, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও পুিলশের উপর একাধিকবার গুলিবর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে কোতোয়ালী মডেল থানায় ০৩টি মামলা ও জালালাবাদ থানায় ০৩টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে এবং জালালাবাদ থানায় ০৪টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সিলেট সদরের চেঙ্গেরখাল নদীতে পাথরবাহী বিভিন্ন নৌযানে চাঁদাবাজি করছিলেন । প্রতিরোধ করতে পুলিশ গেলে চলতি বছরের ১৯ জুন জালালাবাদের খাশরগাও এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে চেয়ারম্যান মনফর। পরবর্তীতে এ বছরের ২৫ জুলাই একটি মামলায় তার সহযোগীকে ধরতে গেলে আবারো পুলিশের উপর গুলিবর্ষণ করেন মনফর। এ সময় কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। চেয়ারম্যান মনফর আলী ও তার ভাই আনফর আলীসহ ৪০/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিন কোম্পানীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে জালালাবাদ থানাধীন চেঙ্গেরখাল নদী দিয়ে চলাচলকারী পাথরবাহী ও বালুবাহী নৌযান হতে ১০০০/১৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে। নদীতে চলাচলরত নৌযানকে মনগড়া রশিদ দিচ্ছে, আবার কোন কোন নৌযানকে রশীদ দেওয়া ছাড়াই জোর পূর্বক আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করত। চেয়ারম্যান মনফর আলীর উপরোক্ত কার্যকলাপ ও নদীতে চাঁদাবাজীর বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম হয়। উক্ত চাঁদাবাজী বন্ধে জালালাবাদ থানা পুলিশ কর্তৃক একাধিকবার চেঙ্গেরখাল নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থল থানা হতে অনেক দূরবর্তী ও যাতায়াত ব্যবস্থা দূর্গম হওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার পূর্বেই অপরাধীরা পালিয়ে গেছে। এই সংক্রান্তে গত ১৯ জুন ২০১৯খ্রিঃ উক্ত চাঁদাবাজীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবের বাজার পুলিশ ফাঁড়ীর এসআই(নিঃ) চন্দ্র শেখর বড়–য়া বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় এজাহার দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে মনফর চেয়ারম্যান এর ভাই আনফরসহ ২১ জন এজাহারনামীয় আসামী ও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আসামীর বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানার মামলা নং-১১, তারিখ-১১/০৭/২০১৯খ্রিঃ, রুজু হয় এবং জালালাবাদ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শাহ আলম উক্ত মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে উক্ত মামলার পলাতক ও তদন্তেপ্রাপ্ত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গত ২৪/০৭/২০১৯খ্রিঃ দিবাগত রাতে কালারুকা সাকিনে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনায় জড়িত আসামী জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে কালারুকা সাকিন হতে নিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে উক্ত আসামীকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে মনফর চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী সশস্ত্র অবস্থায় পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা ৮/৯ রাউন্ড গুলি বর্ষন করে। সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় এসআই (নিঃ)/আশরাফুল সিদ্দিক, কং/১৫৭৮ শুকুর আলী, কং/৯২৬ শাহ আলম আহত হয়। যার প্রেক্ষিতে জালালাবাদ থানার মামলা নং-২০, তারিখ-২৫/০৭/২০১৯খ্রিঃ, রুজু হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী জয়নাল আবেদীন সেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে যে, মনফর চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তার দলের সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপর আক্রমন ও গুলি বর্ষন করেছে। তার জবানবন্দীতে মনফর চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে নদীতে চাঁদাবাজীর কথাটিও প্রকাশ পায়। জালালাবাদ থানার মামলা নং-২০, তারিখ-২৫/০৭/২০১৯খ্রিঃ, এর এজাহারনামীয় আসামী জমির আলী ও একরাম আলীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা উভয়েই সেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে মনফর চেয়ারম্যান রাতের আধারে তার বসতবাড়ীতে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী ও ভাড়া করা কারিগর দ্বারা দেশীয় অস্ত্র/আগ্নেয়াস্ত্র তৈরী করে এবং এই ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটায় বলে প্রকাশ করে। বাড়ীতে অস্ত্র তৈরীর শব্দ যাতে স্থানীয় লোকজন বুঝতে না পারে সেজন্য রাতে বাড়ীতে মেশিন চালিয়ে শব্দের সৃষ্টি করে। গত ০১/০৯/২০১৯খ্রিঃ কালারুকার স্থানীয় লোকজন মনফর চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের অস্ত্রসহ আটক করার চেষ্টা করে। কিন্তু চেয়ারম্যান মনফর আলী কৌশলে পালিয়ে যায়। সাধারণ জনগণ চেয়ারম্যান এর সহযোগী একরাম আলী ও জবান আলীদ্বয়কে ০১টি দেশীয় তৈরী পাইপগানসহ আটক করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। যার ফলে জালালাবাদ থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০১/০৯/২০১৯খ্রিঃ, ধারা- ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-এ পেনাল কোড রুজু হয়। উক্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামী একরাম আলী ও জবান আলীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে উক্ত আসামীদ্বয় বিজ্ঞ আদালতে সেচ্ছায় কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। উক্ত আসামীদ্বয় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে প্রকাশ করে যে, ১নং জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনফর আলী তার বসতবাড়ীতে রাত্রীবেলা ভাড়াটিয়া কারিগর দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র তৈরী করে। তৈরীকৃত আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নদীতে চলাচলরত পাথরবাহী ও বালুবাহী নৌযানের লেবার ও মালিকপক্ষদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দৈনিক ৬০/৭০ হাজার টাকা চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইতোমধ্যে উপরোক্ত মামলা সমূহে গ্রেফতারকৃত মোট ০৪ জন আসামী মনফর চেয়ারম্যান এর চাঁদাবাজী ও অস্ত্র তৈরীর কারখানা সম্পর্কে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। তার এ ধরণের কার্যকলাপে সাধারণ জনগণ অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যান মনফর আলীকে অস্ত্র মামলা, পুলিশ এসল্ট ও চাদাবজি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।